|
রংপুর ওয়েব ফোরাম
রংপুর ওয়েব ফোরাম একটি নতুন বিষয় বিশ্বমানের শিক্ষায় আমাদের অবস্থান in the forums.
“বিশ্বমানের শিক্ষায় আমাদের অবস্থান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর নিয়ে কিছু স্বপ্ন” রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেন থেকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেরা দেশ নির্বাচন সংস্থা নিউজউইক পরিচালিত জরিপে ২০১০ সালে শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্হান পাওয়া দেশটির নাম ফিনল্যান্ড (তথ্যসুত্র:www.newsweek.com)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকায় যথাক্রমে আছে সুইজারল্যান্ড এবং সুইডেন। নিউজউইক যেসব মানদন্ডের ভিত্তিতে সেরা দেশ নির্বাচন করেছে সেগুলো হলো: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনধারণের মান, অর্থনৈতিক মাত্রা ও রাজনৈতিক পরিবেশ। আমাদের দেশ সেই তালিকায় স্হান পেয়েছিল ৮৮ নম্বরে। ৮৯ তম অবস্থান পাওয়া পাকিস্তানের অবস্থান ঠিক আমাদের নিচেই। ৮৭ তম অবস্থান নিয়ে আমাদের উপরে আছে কেনিয়া। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ৭৮ তম। নিউজউইক পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশ শিক্ষা ক্যটাগরীতে পেয়েছে ৫৮.৬৩%, স্বাস্থ্যে ৫১.৭১%, জীবনযাত্রার মানে ৪৮.৫৩%, অর্থনৈতিক মাত্রায় ৩১.০৬% এবং রাজনৈতিক পরিবেশে ৪৭.০৬%। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ৪টি দেশ ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে আর ফিনল্যান্ড এর ভৌগলিক অবস্থান খুব কাছাকাছি। বিশ্বের সেরা ৩টি দেশের মধ্যে এই স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকেই দুইটি দেশ নির্বাচিত হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বাকি দুটি দেশ নরওয়ে আর ডেনমার্কের অবস্থান যথাক্রমে ৬ষ্ট ও ১০ম। পড়াশুনা করার জন্য সুইডেনে অবস্থান করছি বলে সুইডেন সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা পাওয়ার সুযোগ ঘটেছে। অনেক কাছে থেকে এখানকার মানুষের আচার-আচরন, এদের জীবনব্যবস্থা দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমি সুইডেনে যেখানে অবস্থান করছি সেটা ডেনমার্কের অনেক কাছের এলাকা। সুইডেনের রাজধানী ষ্টকহোম ট্রেনে যেতে আমার সময় লাগে ৬ ঘন্টা, সেখানে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন যেতে ট্রেনে সময় লাগে ১ ঘন্টা। সুইডেনের এই দক্ষিণাঞ্চল একসময় ডেনমার্কের শাসনাধীন ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়টি সুইডেনে অবস্থিত। ১৪৭৭ সালে উপসালা (Uppsala University) নামের এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টি সুইডেনে প্রতিষ্টা পেয়েছিল। সুইডেনের দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় লুন্ড্ (Lund University) প্রতিষ্টিত হয়েছিল ১৬৬৬ সালে। গত একবছর ধরে আমি এই লু্ন্ড্ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছি। সেরা দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুইডেন শিক্ষাখাতে পেয়েছে ৯০.৭৬%। ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো সুইডেন কোথাও উপনিবেশ গড়ে তোলেনি। শিল্পায়নের দিক দিয়েও উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে দেশ হিসাবে পরিচিত ছিল সুইডেন। বর্তমান সময়ে শুধু স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলেই নয় বরং সারা বিশ্বের উন্নত প্রথম দশটি দেশের তালিকায় সুইডেনের নাম চলে আসে। সুইডেনের আজকের উন্নতির পিছনে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সেগুলোর মধ্যে শিক্ষাখাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সুইডেনের শিক্ষাখাতে বাজেট এত বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল যে তারা নিজের দেশের শিক্ষার্থীদেরকে বিনাপয়সায় পড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বিনাপয়সায় অধ্যয়নের সুযোগ রেখে দেয় ২০১০-১০১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত। শুধু সুইডেন নয় বিশ্বের যেকোন উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাবে যে তাদের উন্নতির পিছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসাবে কাজ করছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আলোকবর্তিকার (Enlightenment) সময়ের পরে উত্তর ইউরোপ যখন চার্চকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে বের হয়ে এসেছিল ঠিক তখন থেকেই এখানকার সবগুলো দেশে শিক্ষা-গবেষণাকে দেখা শুরু করা হয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে। আর অবিশ্বাস্য সব আবিস্কার হওয়ার রাস্তাটি প্রসারিত হতে শুরু করলো ঠিক তখনই। শুধু বৈজ্ঞানিক আবিস্কার নয়, নতুন নতুন দর্শন-তত্ত্ব জন্মলাভ করে ঠিক এ সময়টাতেই। ১৮৭০ সালে আলফ্রেড নোবেল নামক একজন মহান সুইডিশ বিজ্ঞানী আবিস্কার করেন ডিনামাইট। আর সেই আলফ্রেড নোবেলের নামানুসারে এবং তার অর্থায়নের মাধ্যমে আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটির প্রবর্তন ঘটেছে। উত্তর ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির ধারাটি আজও প্রবাহমান। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা সহ উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপ মহাদেশের অন্যান্য দেশগুলো থেকেও শিক্ষার্থীরা সুইডেনে পড়াশুনা করতে আসে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা আর উঁচুমানের গবেষণার সুযোগ আছে বলেই এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক জনপ্রিয়। এবার একটু আমার দেশের দিকে তাকাই; আমি ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আমার হল শহীদ সালাম-বরকত হলে বেশকিছু নেপালী ছাত্র ছিল। তারা জাহাঙ্গীরনগরে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করতে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমাদের দেশে এসেছিল। আমি যখন ২০০৬ সালে অনার্স শেষ করি তখন আর নতুন কোন নেপালী শিক্ষার্থী দেখতে পাইনি। ৭০ এর দশকে নাকি আমাদের দেশে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কোরিয়া থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে আসতো! ৭০ বা ৮০'র দশকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চয় অনেক উন্নত ছিল। যেদেশে বর্তমান সময়ের উন্নত দেশ মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে আসতো সেদেশে আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা নেপাল, ভুটানেও পড়াশুনা করতে যায় বলে শুনেছি! ২০১০ সালের নিউজউইকের জরিপে আমরা শিক্ষাখাতে অর্জন করেছি ৫৮.৬৩%। কেন এত অবনতি? আমাদের দেশে কি বিশ্বমানের শিক্ষার্থী নেই? এই দরিদ্র দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করতে যেয়ে কতো ভাল রেজাল্ট করছে। গণিত অলিম্পিয়াডের প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা কতো ভাল করছে। শিক্ষার্থী ভাল শিক্ষার্থী হিসাবে জন্মলাভ করেনা, তাদের ভাল পরিবেশ দিতে হয়। পড়াশুনার যথোপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষকদের ভাল প্রশিক্ষণ, গবেষণার পরিবেশ তৈরি এগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে এমনিতেই পড়াশুনার মান উন্নত হয়ে যাবে। ৭০ এর দশকে আমরা যে অবস্থানে ছিলাম আজ প্রযুক্তির প্রসারের যুগেও ঠিক সেভাবে নিজেদের অবস্থানের অবনতি ঘটিয়েছি। বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। ঠিক এ সময় আশার আলো নিয়ে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন কিছুটা হলেও ঘটেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটা এলাকার নয় বরং পুরো দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যে সময় আমরা বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার পিছিয়ে পড়েছি সেসময় এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের কাছে শুধু আশার আলোই নয় বরং পিছিয়ে পড়া উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও রাখতে পারে অনেক অবদান। যার নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত সেই বেগম রোকেয়া নিজেও শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে নারী শিক্ষার আন্দোলনে নেমেছিলেন। নারী শিক্ষার পথিকৃৎ এই বেগম রোকেয়ার নামে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত সেখানে আমরা হরতালের নামে ক্লাশ বন্ধ করিয়ে রাখি। আমরা জাতীয় রাজনীতির কারনে পরপর ৪ দিনেরও বেশি হরতাল করলাম। হরতাল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখলাম। অথচ শিক্ষা আমাদের প্রধান মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। আমরা হরতালের নামে নিজেরাই নিজের জাতিকে তার শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখলাম এবং আরও অনেকবার হরতাল করে বঞ্চিত করতেই থাকবো! আমাদের রংপুর শহরে খেরাজ আলী নামের একজন পরমহিতৈষী একটি সাইকেলে করে বই নিয়ে মহিলাদের জন্য বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিতেন যাতে পিছিয়ে পড়া রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। অনেক কষ্টে তিনি কেরামতিয়া স্কুল মাঠের এক কোনায় একটি পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৬০ এর দশকে খেরাজ আলী যে মহান কাজের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেটার বাস্তব প্রতিফলন আমাদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর। আজ আমাদের উত্তরবঙ্গের মেয়েরা নিজেরাই বাড়ির বাহিরে এসে পড়াশুনা করার সুযোগ পাচ্ছে। ৬০ বা ৭০ দশকের আগে এটা খুব সহজ কাজ ছিলনা। রংপুরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি যদি রংপুরবাসীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়ে থাকে তাহলে আমরা সেই স্বপ্নটিকে রক্ষা করার জন্য কি বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারিনা? আমাদের রংপুরের সব দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একত্রে বসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কি হরতাল আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা? শুধু রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নয় বেগম রোকেয়া আর খেরাজ আলীর প্রতি সম্মান জানিয়ে রংপুরের সব শিক্ষা প্রতিষ্টানকে কি আমরা হরতালের আওতামুক্ত রাখতে পারিনা? গণতান্ত্রিক দেশে হরতাল বা অবরোধ করে দাবী আদায় করা অযৌক্তিক কিছু নয়। কিন্তু দাবী আদায়ের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাটা কি আদৌ যৌক্তিক? আমার এই প্রশ্নটি রংপুরের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে। আমরা অনেক কষ্ট করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি। সারাদেশে আমাদের উত্তরবঙ্গের মানুষ পিছিয়ে পড়া মঙ্গাপিড়িত জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা আমাদের স্বপ্নের একটা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি। আমাদের কি উচিত না সেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশুনা করছে তাদেরকে পড়াশুনার সুষ্ট পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করা? ২০১১ সালের মধ্যেও আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরা ৫০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য অন্তর্ভূক্ত হতে পারেনি। আমরা স্থানীয় মানুষরা যদি আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যপারে একটু সচেতন থাকি, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশুনার সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করি তাহলে কে বলতে পারে যে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিন দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে স্থান করে নিবে না! শিক্ষাই একমাত্র জিনিস যেটা কেউ চুরি করতে পারেনা। শিক্ষাই একমাত্র বিষয় যেটার মাধ্যমে অনেক বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং সেসব স্বপ্নের বাস্তবায়ন করাটাও অসম্ভব কিছু নয়। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর মোবাইল এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ তৈরি করেছিল যেটার কৃতিত্ব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক জলিল মিয়া স্যারের। আজ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক ছোট পরিসর নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, কিন্তু শিক্ষার মান ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে সেটা অনেক দ্রুত বড় পরিসর তৈরি করে দিবে। শ্রদ্ধেয় উপাচার্য জলিল স্যারকে আমি অনুরোধ করবো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটু বেশি সচেতন থাকতে। আমাদের রংপুরের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশের উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে তাদেরকে খুঁজে বের করুন। নিজের এলাকার প্রতি সবারই একধরণের দুর্বলতা থাকে, আপনি তাদেরকে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেখুন তারা কতোটা আনন্দের সঙ্গে তাদের নিজের এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশের শিক্ষাটাকে কাজে লাগায়। দলীয়করণের উর্ধ্বে উঠে আপনি যদি বিদেশ থেকে ডিগ্রি নেয়া রংপুরের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত করতে পারেন সেটা শুধু আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয় বরং পুরো দেশের জন্য মঙ্গলময় হবে। এছাড়া প্রতিবছর অন্তত একজন করে হলেও আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাওয়ার সুযোগ তৈরি করুন। তারা বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাধর্মী পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করুক। যারা বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত হবে তাদের মাধ্যমে বিদেশের সেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কোলাবোরেশন প্রোগ্রাম তৈরি করার চেষ্টা করুন। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই বিদেশের ভাল প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক দিয়ে পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন স্যার। দরকার হলে প্রতিটি বিভাগে বাধ্যতামুলক কিছু কোর্স চালু করুন যার মাধ্যমে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা মিলে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে দক্ষ হতে পারে, সঙ্গে কম্পিউটারের বেসিক বিষয়গুলো আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে আমরা এলাকার স্থানীয় মানুষরা যদি আমাদের স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকি তাহলে অবশ্যই আমাদের অন্যান্য স্বপ্নগুলোও বাস্তবায়িত হবে। আমাদের এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়টির যত্ন নিলে সেটার সুফল ভোগ করবো আমরাই। আমরা যে দলের সমর্থক হইনা কেন এই রংপুর আমাদেরই। আমাদের আদর্শ, ধর্ম, সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে কিন্তু এই রংপুরতো আমাদের জন্মস্থান। আমরা আমাদের জন্মস্থানকে উন্নত করে গড়ে তোলার জন্য কি সবাই মিলে একত্রিত হতে পারবোনা? নিজের এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কি একটু ছাড় দিতে পারবোনা? আমাদের নতুন প্রজন্ম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে। আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি তাহলে একদিন আমাদের শহরেই বিদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে আসবে। উঁচুমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি করাতে পারলে আামাদের স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা একদিন বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ পাবে। আমাদের এই রংপুরকে অন্য এলাকার মানুষ মঙ্গাপিড়ীত পিছিয়ে পড়া মানুষ বলতে সংকোচবোধ করবে। আসুন স্বপ্ন দেখি আমাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়ে। আমরা দেশ স্বাধীন হবার প্রায় ৪০ বছর পরে আমাদের প্রাণপ্রিয় রংপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি। পরবর্তী ৪০ বছরে যেন আমাদের অন্যান্য স্বপ্নগুলো আমরা পুরণ করতে পারি, সেদিন যেন আমাদের রংপুরের মানুষ গর্ব করে বলতে পারে যে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর। শুধু দেশের মধ্যেই নয় একইসঙ্গে বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢুকে যাক আমাদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর-এর নাম। আসুন সবাই মিলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটু সহযোগিতা করি। লেখক: রিফাত রহমান শাকিল সুইডেনে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে মাষ্টার্স করছেন ই-মেইল: rifat218@gmail.com ...বিস্তারিত পড়ুন 658 days ago
রংপুর ওয়েব ফোরাম একটি নতুন বিষয় উত্তরবঙ্গের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষিত in the forums.
উত্তরবঙ্গের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষিত ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেন থেকে ২০১১ সালের জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানা মন্জুরের উপর নির্মম নির্যাতনের খবরটি পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানলাম ঠিক সে মাসেই জানতে পারলাম একজন শাহনাজ হুসনে জাহান এর কথা। রুমানা মন্জুর যখন তার স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হয়ে তার চোখ হারিয়ে ফেলছেন তখন অধ্যাপক শাহনাজ হুসনে জাহান আবিস্কার করছেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোবৃহৎ প্রাচীন দুর্গনগরী। ২৫ জুনের দৈনিক প্রথম আলোর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন 'ছুটির দিনে' প্রকাশিত হয়েছে 'পঞ্চগড়ের ভিতরগড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। ভিতরগড়কে নতুন করে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার পুরোভাগে ছিল অধ্যাপক শাহনাজ হুসনে জাহান ও তাঁর দল'। অধ্যাপক শাহনাজ যা করেছেন সেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অনেকটাই অবিশ্বাস্য এবং অকল্পনীয়। আমরা এখনও আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুণরানয়নের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অসচেতন। সেই প্রেক্ষিত থেকেই এবং সরকারী পৃষ্টপোষকতা ছাড়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অধ্যাপক শাহনাজ শুরু করেছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও উৎখনের কাজ। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর আগ্রহ থাকলে মানুষ যে সফল হয় সেটা প্রমান করে দিয়েছেন আমাদের দেশের একজন নারী প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক শাহনাজ হুসনে জাহান । পঞ্চগড় আমাদের খুব কাছের একটি জেলা, বর্তমানে সেটা আবার রংপুর বিভাগের মধ্যেই অবস্হিত। আমাদের রংপুরের কজন মানুষ জানতেন যে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোবৃহৎ প্রাচীন দুর্গনগরীটি আমাদের বিভাগের মধ্যেই অবস্হিত! আমাদের খুব কাছের জেলা দিনাজপুরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এরকম অনেক প্রত্নস্হল। খুব আশার বিষয়টি হলো ২০০৯ সাল থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব' নামক একটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। তার আগে পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে শুধুমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'প্রত্নতত্ত্ব' বিষয়টি পড়ানো হতো। দ্বিতীয়বারের মতো বিভাগটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করানোর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল জলিল মিয়া নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। সঙ্গে 'ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব' বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আবু ইকবাল সহ বিভাগের অন্যান্য সকল শিক্ষক একটি বিশেষ ধন্যবাদের দাবীদার প্রত্নতত্ত্বকে পাঠ্য বিষয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করানোর জন্য। প্রত্নতত্ত্ব বিষয়টি শৌখিন বিষয় হিসাবে পরিচিত হলেও সারা বিশ্বেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া প্রত্নতত্ন চর্চার কাজ কোনভাবেই সম্ভব না। উন্নত দেশগুলো তাদের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য কে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে; গড়ে তুলছে পর্যটন কেন্দ্র; ভার্চুয়াল মিউজিয়ামের মাধ্যমে উপস্হাপন করছে সাধারণ মানুষের কাছে যাতে মানুষ তার নিজের দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে, সংরক্ষণের জন্য সচেতন হতে পারে। ইউরোপ, আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে ডিজিটাল প্রত্নতত্ত্ব। ব্যবহার করা হচ্ছে জিপিএস, টোটাল ষ্টেশন, উৎখননের পূর্বে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, ভূ-উপগ্রহ থেকে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে উৎখননস্হল; কম্পিউটারকে কাজে লাগিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রত্নস্হলের ত্রিমাত্রিক গ্রাফিক্স ও মুভি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতিহাসকে পূণঃনির্মাণ করা হচ্ছে অনুকল্পিকভাবে। উৎখনন কাজ থেকে শুরু করে উৎখনন পরবর্তী গবেষণার কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যাবহার করা হচ্ছে। এসবকিছুই করছেন প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের শিক্ষার্থীরাই। আর আমরা কোথায় পড়ে আছি এখনও! যদিও আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্নতত্ত্ব চর্চার বয়স খুব বেশি নয়। ১৯৯০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বিষয়টি পড়ানো শুরু হয়। মাত্র একুশ বছরের মধ্যে সবকিছুর পরিবর্তন করানো সম্ভবও নয়। দুঃখের বিষয়টি হলো এটাই যে বিগত ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই উনিশ বছর ধরে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়ানো হয়েছে। অথচ এই উনিশ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে আবিস্কৃত হয়েছে উয়ারী-বটেশ্বর নামক দেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগর; এ সময়ের মধ্যে ইউনেস্কো থেকে পাহারপুড় ও বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদকে ঘোষণা করা হয়েছে 'বিশ্ব ঐতিহ্য' হিসাবে; অধ্যাপক শাহনাজ আবিস্কার করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোবৃহৎ প্রাচীন দুর্গনগরী। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা নগর প্রমান করে যে আমাদের সভ্যতা অনেক প্রাচীন। নাম না জানা কত প্রত্নস্হল আমাদের আশেপাশের এলাকাতেই মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, অথচ সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ ঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি কখনো। মহাস্হানগড় থেকে প্রাপ্ত ব্রাক্ষ্মলিপিটা প্রায় হারিয়েই যেত শুধুমাত্র অসচেতনতার কারনে, সেই তাম্রলিপির একাংশ পুকুরঘাটে রেখে গ্রামের মহিলারা সেটার উপরে কাপড় কাচতেন। দীর্ঘদিনধরে কাপড় কাচার কারনে লিপির প্রায় একাংশ নিশ্চিন্হ হয়ে পড়েছিল। ঠিক এভাবে আমাদের দেশে শুধুমাত্র অসচেতনতার কারনে হারিয়ে যায় কতো নাম না জানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি। এদিক দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি আশার আলো। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগটি আমাদের প্রত্নতত্ত্ব চর্চাকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইউরোপের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস বিষয়টিকে রাখা হয়েছে সম্মিলিতভাবে একই বিভাগের আওতাধীন করে। ঠিক সে কাজটিই করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব' বিভাগটি। আমরা হয়তো একটি দরিদ্র দেশের মানুষ, কিন্তু আমাদের প্রাচীন সভ্যতা অনেক সমৃদ্ধশালী যার প্রমান আমরা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছি। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে আবিস্কার করতে পারে রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্রত্ননিদর্শন। ডিজিটাল প্রত্নতত্ত্ব চর্চার শুরুটাও হতে পারে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকেই। শুরু হতে পারে এই বিভাগ থেকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল মিউজিয়ামের যাত্রা । ইন্টারনেট যুগের প্রজন্মের কাছে আমরা এটা আশা করতেই পারি। তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বের করে আনবে আমাদের অজানা ইতিহাস, আবিস্কার করবে নতুন কোন সভ্যতা। শুভকামনা রইল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য; শুভকামনা রইল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব' বিভাগের জন্য। লেখক: রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেনে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে মাষ্টার্স করছেন ...বিস্তারিত পড়ুন 677 days ago
রংপুর ওয়েব ফোরাম একটি নতুন বিষয় ‘একজন মজিবর রহমান রবি ও আমাদের তরুন সমাজ’ in the forums.
‘একজন মজিবর রহমান রবি ও আমাদের তরুন সমাজ’ -রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেন থেকে আজ থেকে ২৬ বছর আগের কথা। ১৯৮৫ সালে একজন লোক নাটক লিখতেন। লোকটা সুস্হ্য নন, পক্ষাগাত রোগে আক্রান্ত। হাত-পায়ের হাড় বেঁকে গেছে, লিখতে অনেক কষ্ট হয়, তবুও লেখেন, যা লেখেন তাই অস্বাভাবিক রকমের সুন্দর আর ঝকঝকে লাগে দেখতে। তার লেখাগুলো সুন্দর হয়ে ওঠার কারন দুটি । প্রথমত তার সুন্দর হাতের লেখা আর দ্বিতীয়ত সমাজের অস্হিরতাকে তিনি নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। আমি তখন মাত্রই ৫ বছরের একটা বাচ্চা; কিছুই বুঝিনা; কিন্তু সুন্দর হাতের লেখার ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম। সুযোগ পেলেই তার ঘরে ঢুকে তার লেখাগুলো দেখতাম । এই লোকটি আমার মেজ চাচা, মজিবর রহমান রবি, 'রবি' নামটা অবশ্য নিজের লাগানো, কারন তিনি রবিঠাকুরকে পছন্দ করতেন অনেক বেশী । আমার মেজ চাচা তার অসুস্হ্য শরীর নিয়ে শুধু নাটক বা কবিতাই লিখতেন না, ছবি আঁকতেন, ঘুড়ি বানাতেন । সেই ঘুড়িগুলো ২/১ টাকা করে পাড়ার ছেলেদের কাছে বিক্রি করতেন । কারন তার জীবিকা নির্বাহের কোন রাস্তা খোলা ছিলনা । মেজ চাচা ১৯৭০ সালে প্রথম বিভাগ নিয়ে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিক পাশ করে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন, এরপর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সেই কলেজ থেকেই ডিগ্রী পাশ করেন । ছাত্র হিসাবে মেধাবী থাকার কারনে পাশ করেই ব্যংকে চাকরী পেয়ে যান, কিন্তু তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ যে চাকরীতে যোগদান করার আগের রাতেই পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন । পা বাঁকা করে হাঁটতেন, তাই পাড়ার লোকজন তাকে বিদ্রুপ করে ন্যংড়া বলেও ডাকত । তিনি এসবকে ঘুনাক্ষরেও গুরুত্ব দিতেন না, বরং অসুস্হ্য হবার পরে লেখালেখি করার অনেক সুযোগ পেয়েছেন বলে তাকে আনন্দিতই মনে হতো ! শিল্প-সংস্কৃতিতে আমাদের রংপুর দীর্ঘদিন ধরেই একটা পরিচিত নাম, এই রংপুর জন্ম দিয়েছে অনেক গুনী সাহিত্যিক, নাট্যকার কে । মজিবর রহমান রবি তাদেরই একজন । যিনি তার শেষ জীবন কাটিয়েছেন মুন্সিপাড়ার একটা ভাঙ্গা ঘরে বাস করে, টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেননি, কিন্তু কখনই মানুষের কাছে হাত পাতেননি, নাটক মঞ্চায়ন করে বা নিজের বানানো ঘুড়ি বিক্রি যা পেতেন সেটা দিয়েই কষ্ট করে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতেন । পাড়ার ছেলেদের ব্যস্ত রাখতেন শিল্প চর্চার মাধ্যমে । প্রায় প্রতিবছর কেরামতিয়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজন করতেন নাটকের, আর তার নাটকের নির্দেশক হিসাবে থাকতেন তারই বন্ধু প্রাক্তন পৌরসভা চেয়ারম্যান জুন্নুন চাচা । নাটককে ঘিরে চলতো রিহার্সেল, পাড়ার তরুণ সমাজ অনেক উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে । বড় নাটক গুলো মঞ্চায়ন করা হতো টাউনহলে । ২৬ বছর আগে যে রংপুরে নাটক নিয়ে পাড়ায় অনুষ্ঠান হতো কেমন আছে এখন সেই রংপুর? কেমন আছে রংপুরের তরুন সমাজ? যে রংপুরে একজন পঙ্গু লোক বেঁকে যাওয়া হাত দিয়ে নাটক লিখে তরুন সমাজকে খারাপ কাজ থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিল এখনও কি আমাদের প্রিয় রংপুর তেমনটাই আছে? আমার জানামতে রংপুরের কোন পাড়ায় এখন আর মঞ্চনাটক হয়না, নতুন প্রজন্ম ভাবতেই পারেনা যে তাদের আগের প্রজন্ম কতোবেশী প্রগতিশীল, আর শিল্প-সাহিত্যমনস্ক ছিল ! তরুণদের আজকের অবস্হার সব দায়ভার আমাদেরই । আমরা আমাদের স্বার্থে তরুনদের ভালকাজ থেকে দুরে সরিয়ে এনে বিষাক্ত রাজনীতির বেড়াজালে বন্দী করে রেখেছি, খেলার মাঠের বদলে তাদের হাতে তুলে দিয়েছি মাদকদ্রব্য, পাড়ার একটা ছেলে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে অথচ আমরা সচকিত নাগরিক সমাজ সেটা দেখেও না দেখার ভান করছি, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কোন দায়িত্ব আমরা নিতে চাইনা। মেজ চাচা ১৯৯১ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং সে বছরই ২১ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। এই অস্হির সময়টাতে মেজ চাচাকে খুব মনে পড়ে । আমাদের কিছু মজিবর রহমান রবি দরকার, শুধুমাত্র তারাই পারেন আবার আমাদের তরুন সমাজকে এই মহাবিপদের হাত থেকে উদ্ধার করতে । আমি রংপুরে একজন মজিবর রহমান রবির জন্য অপেক্ষা করছি । Rifat Rahman Shakil Postgrade Student Archaeology Department Lund University, Sweden e-mail: rifat218@gmail.com ...বিস্তারিত পড়ুন 691 days ago
রংপুর ওয়েব ফোরাম একটি নতুন বিষয় প্রবাসী রংপুরীদের চেতনার রংপুর in the forums.
“প্রবাসী রংপুরীদের চেতনার রংপুর” (রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেন থেকে)
প্রথম বিদেশে আসার দিনটা এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৬, চোখের জল মুছে ইতিহাদ এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট এ উঠছি, পিছনে ফেলে আসছি বাবা-মা'র চোখের জল, প্রিয় দেশ আর আমার প্রিয় শহর রংপুরকে। যারা কখনো বিদেশে যায়নি এই অনুভুতিটা তারা কখনো উপলব্ধি করতে পারবেনা যে সে সময়টায় মনের মধ্যে দেশের প্রতি কতোখানি ভালবাসা জেগে ওঠে। আর আমরা রংপুরের মানুষতো স্বভাবগতভাবেই একটু বেশী আবেগপ্রবণ। যে শহরে আমি বড় হয়েছি, যে শহর আমার শৈশবের সব স্মৃতি জমা করে রেখেছে, আমি সেই শহরকে দুরে ফেলে হাজার হাজার মাইল দুরের বিলেতে চলে যাচ্ছি……………..। বিদেশে আসার সময় যে আবেগকে বুকে চাপিয়ে রেখে বিদেশে এসেছিলাম সেটা কিন্তু আজও অমলিন। এখনও সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথমেই জানতে ইচ্ছে করে আমার পরিবারের কথা, আমার প্রিয় শহরটির কথা, আমার প্রিয় দেশটার কথা। ইন্টারনেটের কল্যানে সব খবরগুলো খুব দ্রুত পেয়ে যাই, ভাল কোন খবর পেলে যেমন মনটা ভাল হয়ে যায় ঠিক সেভাবেই খারাপ সংবাদ পাওয়ার পর মনটা ভরে ওঠে বিষন্নতায়। বিদেশে এসে খুঁজে বেড়াই রংপুরের মানুষকে; দেশ থেকে কেউ আসছেন কিনা; কেউ দেশে যাচ্ছেন কিনা এসবের মধ্যে বিদেশের মাটিতে প্রিয় শহরটার সান্নিধ্য পাওয়ার অফুরন্ত চেষ্টা রংপুর থেকে আসা সব প্রবাসীদের মধ্যেই। এভাবেই আমরা প্রবাসীরা ধীরে ধীরে মিলিত হতে শুরু করেছি একসঙ্গে। কদিন আগে রংপুরের মেয়র মানিক চাচা ফোন করে জানালেন তিনি অষ্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, সেখানে রংপুরের কেউ থাকলে চাচা সুযোগ করে তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন। আমি পরদিনই চাচাকে জানালাম অষ্ট্রেলিয়াতে মুলাটোলের নাজু আর বিপু ভাই আছেন, আর নিউজিল্যান্ডে আছেন ষ্টেশন রোডের জাহিদ ভাই। এরপর নাজু, বিপু ভাই আর জাহিদ ভাইকে মেয়র চাচার কথা জানানোর পর তারা অধীর আগ্রহ নিয়ে চাচার জন্য অপেক্ষা করতে থাকল। মেয়র চাচা অষ্ট্রেলিয়াতে পৌঁছানোর পর নাজু আর বিপু ভাই চাচাকে তাদের বাসায় নিয়ে যেয়ে সেদিনই চাচার সঙ্গে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করলো আমাকে নিশ্চিত করার জন্য যে তারা অষ্ট্রেলিয়াতে বসেই মেয়র চাচার সান্নিধ্য পেয়েছে। চাচা কবে নিউজিল্যান্ডে যাবেন সেটা জানার জন্য অস্হির হয়ে জাহিদ ভাই আমাকে রাত-দিন ফোন করতে থাকলো। চাচা নিউজিল্যান্ড এ যেখানে যাবেন সেখান থেকে জাহিদ ভাইয়ের বাসা ৫/৬ ঘন্টার বাস জার্নি করে যেতে হয়। তাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাহিদ ভাই চাচার সান্নিধ্য পায়নি। এজন্য আজও জাহিদ ভাই দুঃখ করে বলেন যে চাচা নিউজিল্যান্ডে থাকাকালীন চাচার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হলনা তার। এই বোধ, এই আবেগ, এই ভালবাসা কাজ করে রংপুরের প্রতিটি মানুষের জন্য। আর সেজন্য আমরা খুঁজে ফিরি একজন আর একজনকে, নিজের শহরের মানুষকে। আমরা অবচেতন মনেই রংপুরের মানুষের জন্য অপেক্ষা করি, রংপুরের থাকা অবস্হায় রংপুরের যাকে চিনতাম না, জানতাম না, সেই মানুষটাকেই বিদেশের মাটিতে পেয়ে মনে হয় যে দীর্ঘদিনের পরিচিত কাউকে কাছে পেয়েছি, কাছে পেয়েছি আমার প্রিয় শহরের সান্নিধ্য। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা যেমন সিলেট বা নোয়াখালীর তুলনায় বিদেশে রংপুরের মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না। তবে এরপরেও অনেক দেশেই এখন রংপুরের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়। রংপুরের মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে সারা পৃথিবীতে। আমি ইংল্যান্ড থেকে সুইডেন আসার পর জানতে পেরেছি এখন ইংল্যান্ডেও রংপুরের বেশকিছু মানুষ দেখা যায়, এমনকি তারা 'বৃহত্তর রংপুর সমিতি' নামক একটা সংগঠনও দাড় করিয়েছে। ২০০৬/২০০৭ সালেও লন্ডনের রাস্তায় রংপুরের মানুষ চোখে পড়তোনা তেমন একটা, অথচ আজ সেখানে প্রবাসী রংপুরীরা একটা সংগঠন খুলে ফেলেছে। আমি ইংল্যান্ড থেকে সুইডেনে চলে আসি ২০১০ সালে। সুইডেন আসার পর আমার মাথায় রংপুর নিয়ে একটা চিন্তা কাজ করতে শুরু করলো তা হলো প্রবাসী রংপুরীদেরকে কিভাবে একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। প্রবাসী রংপুরীদের একত্র করার চিন্তাটা প্রথম আসে এ বছরের প্রচন্ড শীতের সময় যখন দুঃস্হ মানুষগুলো কষ্ট পাচ্ছিল তাদের কথা ভেবে। রংপুর থেকে রিয়াদ আনোয়ার শুভ ভাই ফেইসবুকে প্রচন্ড শীতের বিষয়টা জানানোর পর স্পেন থেকে অপু ভাই, আমেরিকা থেকে জাহেদ ভাই কিছু টাকা পাঠিয়ে দিল, আমিও কিছু দিলাম, সেই সাথে যুক্ত হলেন আরও কিছু নিবেদিত প্রাণ প্রবাসী এবং রংপুরে অবস্থানকারী বন্ধু এবং বড় ভাইয়েরা। সব মিলিয়ে মোটামুটি যা পাওয়া গেল সেটা দিয়েই শুভ ভাই এলাকার ছেলেদের নিয়ে গরীবদের জন্য শীতবস্ত্র কিনে দিল। শীতে কষ্ট পাওয়ার ব্যাপারটা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়, প্রতি বছর শীত আসে আর একইভাবে আমাদের দুঃস্হ মানুষগুলো কষ্ট পায়। অথচ সিলেটের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের যেকোন দুরাবস্হায় সিলেটি প্রবাসীরা সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়ে। তাদের এলাকার প্রতি যে টান, এলাকার মানুষদের প্রতি যে অনুভুতি সেটা অকল্পনীয়। এটাইতো মানবিকতা, নিজের এলাকার মানুষের কল্যানেই যদি না এলাম তাহলে আমার মধ্যে মানবিকতা বলেতো কিছুই থাকলোনা। আমি সিলেটের প্রবাসীদের শ্রদ্ধা জানাই তাদের মানবিকতার জন্য। এই মানবিকতা ধরে রাখতে পেরেছে বলেই সিলেটের মানুষ আজ লন্ডনের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে, প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে নিজেদের। আমি আমার সব পরিচিত প্রবাসীদের নিয়ে ফেইসবুকে এ বছরের এপ্রিল মাসে একটা গ্রুপ চালু করলাম 'প্রবাসী রংপুরী' নামে। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই গ্রুপে মেম্বার সংখ্যা হয়ে গেল ৮০ জন। আমেরিকা থেকে মুন্সিপাড়ার শুভ ভাই, অষ্ট্রেলিয়া থেকে সার্কিট হাউসের তৌফিক, ইংল্যান্ড থেকে মুন্সিপাড়ার ফয়সাল ও মেহেদী, স্পেন থেকে আদর্শ পাড়ার অপু ভাই সহ অনেকে অনেক দ্রুত প্রবাসী রংপুরীদের গ্রুপে জয়েন করলেন। সার্কিট হাউসের রিয়াদ আনোয়ার শুভ ভাই প্রবাসী না হয়েও প্রবাসী রংপুরী খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করলেন। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী রংপুরীদের একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা। আমরা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের প্রিয় শহরকে দারিদ্রমুক্ত করতে চাই। আমরা একটা সুন্দর, সুখী রংপুর গড়ে তুলতে চাই। আমাদের গ্রুপ ওপেন রাখা হয়েছে সকল প্রবাসীদের জন্য। দেশের বাহিরে থাকা যে কেউ এই গ্রুপের সদস্য হতে পারবেন। যাদের ফেইসবুকে আইডি আছে তারা সরাসরি “Rangpurian Overseas (প্রবাসী রংপুরী)“ সার্চ দিয়ে গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। যাদের ফেইসবুক আইডি নেই তারা ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন। ই-মেইল: rifat218@yahoo.com, rifat218@gmail.com. 'প্রবাসী রংপুরী' গ্রুপের কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন। গ্রুপটির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রবাসজীবনের একাকীত্ব, খারাপ লাগা, ফেলে আসা শহরের স্মৃতি ভাগাভাগি করি। যাদের ফেইসবুক আইডি নেই তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অবশ্য অনেকের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে গ্রুপের আর্কাইভে রাখা হয়েছে। সকল প্রবাসী একেকজন যোদ্ধা। প্রবাসজীবনে আমরা সকলেই যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধ শুধু নিজের জন্য নয় বরং একটি দেশের জন্য প্রতিনিয়ত আমরা যুদ্ধ করছি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে, প্রিয় শহর ছেড়ে। আমাদের এই যুদ্ধ তখনই সফল হবে যখন দেখতে পারব দেশে আমাদের সকলের পরিবারের সদস্যরা ভাল আছেন, নিরাপদে আছেন, যখন জানব আমাদের কোন গরীব আত্মীয় বা পাশের বাসার পরিবারটিকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছেনা। আমরা সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছি, যেদিন আমাদের প্রিয় রংপুরে থাকবেনা কোন ক্ষুধার কষ্ট, শীতের সময় ঠান্ডায় কষ্ট পাবেনা কেউ, প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার যেদিন নিশ্চিত হবে, আমরা প্রবাসী রংপুরীরা অধীর আগ্রহ নিয়ে সেই স্বপ্নের দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি……………………..। Rifat Rahman Shakil, Postgrade Student Archaeology: Theory and Practice Lund University, Sweden ...বিস্তারিত পড়ুন 698 days ago
WallRangpur Web Sponsor: Tutorial, Finance, Joomla, Google Adsense, Online money, YouTube, Wordpress, Template |